আজ ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৬ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

কটিয়াদীতে অনুমোদনহীন কেয়ার জেনারেল হাসপাতাল বন্ধের নির্দেশ

প্রতিনিধি সুমন মিয়া : কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে অনুমোদনহীন প্রাইভেট হাসপাতাল কেয়ার জেনারেল হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর আগে প্রাইভেট এই হাসপাতালটিতে প্রসূতির জরায়ু কেটে ফেলা ও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ ওঠলে সিভিল সার্জনের নির্দেশে অভিযোগগুলোর তদন্ত করা হয়।

তদন্তে প্রাইভেট হাসপাতালটির সরকারি অনুমোদন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না থাকায় এবং হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম পরিলক্ষিত হওয়ায় কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জনের লিখিত নির্দেশে সোমবার (৯ নভেম্বর) কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজমুস সালেহিন প্রাইভেট হাসপাতালটি বন্ধের লিখিত নির্দেশ দিয়েছেন।

জানা যায়, অনুমোদনহীন কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে সন্তান প্রসবে সিজার করার সময় রুমা আক্তার নামে এক প্রসূতি মায়ের জরায়ু কেটে ফেলেন চিকিৎসক। রুমা উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের চারিপারা গ্রামের পিন্টু মিয়ার স্ত্রী।

পৃথক অপর ঘটনায় সিজারের এক ঘন্টা না পেরোতেই নবজাতকের মৃত্যু ও প্রসূতি মায়ের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে রুমা আক্তার ও ইয়াসমিন নামে দুই প্রসুতি মা এবং রুমার শিশু সন্তানের জীবন বাঁচাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরী ভিত্তিতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।রুমা আক্তারের স্বামী পিন্টু মিয়া জানান, গত ১ অক্টোবর তার স্ত্রীর সন্তান প্রসবের জন্য কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার স্ত্রীকে সিজার করার সময় জরায়ু কেটে ফেলে। এর কিছুক্ষণ পরই হাসপাতাল থেকে তাকে জানানো হয়, ‘আপনার স্ত্রী ও সন্তানকে বাঁচাতে চাইলে দ্রুত অন্য কোন হাসপাতালে নিয়ে যান’। পরে পিন্টু মিয়া তার স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৃথক ওয়ার্ডে চিকিৎসা করান।

ইয়াসমিনের স্বামী মো. সাদেক মিয়া জানান, গত ২১ সেপ্টেম্বর কেয়ার জেনারেল হাসপাতালের এক কর্মচারী উন্নত চিকিৎসা সেবার কথা বলে তার স্ত্রীর সন্তান প্রসবের জন্য নিয়ে আসে। সিজারের মাধ্যমে ছেলে সন্তান প্রসবের পর পরই তাকে জানান. ‘আপনার নবজাতক ছেলে শিশুর অবস্থা ভালো না। তাকে বাঁচাতে হলে কিশোরগঞ্জ নিয়ে যান।’

এ সংবাদ শুনে সাদেক মিয়া দ্রুত একটি অ্যাম্বুল্যান্সে করে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরই কর্মরত চিকিৎসক নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত শিশুর লাশ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে কেয়ার হাসপাতাল থেকে মোবাইল ফোনে সাদেক মিয়াকে আবারও জানানো হয়, ‘আপনার স্ত্রীর অবস্থা ভালো না, তাড়াতাড়ি তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে নিয়ে যান।’

এ অবস্থায় সাদেক মিয়া মৃত শিশুর লাশ রেখে স্ত্রীকে বাঁচাতে দ্রুত কটিয়াদী কেয়ার হাসপাতালে ছুটে যান। প্রায় মৃত অবস্থায় স্ত্রী ইয়াসমিনকে তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকগণ জানান, ‘রোগীকে দ্রুত আইসিইউতে ভর্তি করতে হবে।’

এ সময় সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ খালি না থাকায় ময়মনসিংহ শহরেই সাঈম প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে আইসিইউতে স্ত্রী ভর্তি করান সাদেক মিয়া। চিকিৎসা শেষে প্রায় ৭০ হাজার টাকা বিল দিয়ে স্ত্রীকে তিনি নিয়ে আসেন।

বর্তমানে তার স্ত্রী সন্তান হারিয়ে অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে রয়েছে।

কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজমুস সালেহিন জানান, কেয়ার জেনারেল হাসপাতালের সরকারি অনুমোদন না থাকায় কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জনের নির্দেশে সোমবার (৯ নভেম্বর) হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য লিখিত চিঠি দিয়েছি।

কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. মজিবুর রহমান জানান, কটিয়াদীতে কেয়ার জেনারেল হাসপাতালের সরকারি অনুমোদন না থাকায় হাসপাতালটি বন্ধের জন্য আমি লিখিত নির্দেশ দিয়েছি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নির্দেশ না মানলে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের সহযোগিতায় বন্ধ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     More News Of This Category