আজ ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৭ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

কটিয়াদীতে আগুনে সাত ঘর ভষ্মিভূত, পুড়ে ছাই পাঁচ গরু, আহত দুই

প্রতিনিধি এনামুল হক : কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে রোববার (১৩ মার্চ) দিবাগত গভীর রাতে এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আসবাবপত্র ও নগদ টাকাসহ তিনটি বসতঘর, ৫টি গরুসহ দুটি গোয়ালঘর ও দুটি রান্নাঘর পুড়ে ভষ্মিভূত হয়েছে। উপজেলার ধূলদিয়া ইউনিয়নের শিমুলতলা গ্রামে ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে।

গ্রামবাসী দুই ঘন্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় জামাল উদ্দিন ও তার মা জাহেরা খাতুন (৭০) আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ধূলদিয়া ইউনিয়নের শিমুলতলা গ্রামের জামাল উদ্দিন গভীর রাতে ঘুমের মধ্যে তার বসত ঘর জ্বলতে দেখে ডাকচিৎকার শুরু করেন।

তার ডাক চিৎকারে আশ পাশের মানুষজন ছুটে এসে আগুন নিভানোর চেষ্টা করে। আগুনের লেলিহান শিখা মুহুর্তেই পার্শ্ববর্তী কামরুল ইসলাম পট্টু ও উসমানের বসত ঘর, গোয়ালঘর ও রান্নাঘরে ছড়িয়ে পড়ে।

এ সময় ঘুমন্ত নারী পুরুষ ও শিশুদেরকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে পারলেও আসবাবপত্র, নগদ টাকা পুড়ে ভষ্মিভূত হয়।

এছাড়া দুটি গোয়াল ঘরের ৫টি গরু পুড়ে যায়। এর মধ্যে একটি উন্নত জাতের গাভী পুড়ে মারা যায়।

কটিয়াদী ফায়ার সার্ভিসকে সংবাদ দিলেও রাস্তা সংকীর্ণতার কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারেনি।

স্থানীয় লোকজন স্যালু মেশিনের পানি দিয়ে দুই ঘন্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে আগুনের সূত্রপাত কোথা থেকে তা জানা যায়নি বলে জানান এলাকাবাসী।

ক্ষতিগ্রস্ত উসমান বলেন, তার বসত ঘর, ঘরের আসবাবপত্র ও ঘরে রক্ষিত ৪০ হাজার টাকা পুড়ে অন্তত ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

জামাল উদ্দিনের একটি উন্নত জাতের গাভী ও একটি বাছুর মূল্য দেড় লাখ টাকা হবে পুড়ে মারা যায়, অন্যটি মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে।

এছাড়া বসতঘর, ঘরে রক্ষিত ১০ হাজার টাকা পুড়ে ভষ্মিভূত হয়েছে এবং কামরুল ইসলামের বসতঘর, ঘরের আসবাবপত্র পুড়ে যায়।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর।

সহশ্রাম ধূলদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কাসেম আকন্দ বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। স্থানীয় লোকজন স্যালু মেশিনের পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। তবে আগুনের সূত্রপাত জানা যায়নি।

কটিয়াদী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ আতিকুল আলম বলেন, আমাদের ফার্স্ট কল গাড়িটি বেশ বড়। আমাদের সেকেন্ড কল কোন গাড়ি নেই। রাস্তা সংকীর্ণ থাকার কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারিনি। আমরা যতটুকু পর্যন্ত যেতে পেরেছি তার থেকে ঘটনাস্থল আরও ৪-৫কি.মি. দূরে। আমাদের ময়মনসিংহ বিভাগকে অবহিত করি। কিশোরগঞ্জ সদর থেকে সেকেন্ড কল গাড়ি পাঠানোর কথা। আমরা ঘটনাস্থলে যেতে না পেরে ফিরে আসি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার জ্যোতিশ্বর পাল বলেন, গভীর রাতে আগ্নিকা-ের ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করা হবে। এ ধরণের ঘটনা অনাকাঙ্খিত। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের চেষ্টা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     More News Of This Category