আজ ১৯শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৩রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

কটিয়াদীতে টুনি ধর্ষণ-হত্যার রহস্য উদঘাটন

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি সাদেক মিয়া: কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ৯ বছর বয়সী শিশু সাদিয়া আক্তার টুনি ওরফে বৃষ্টি (৯) কে অপহরণ এবং ধর্ষণ শেষে হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং এ ঘটনায় জড়িত ঘাতক নজরুল ইসলাম (৩৫) কে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। গ্রেপ্তারের পর আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ঘাতক নজরুল শিশু টুনি ওরফে বৃষ্টিকে ধর্ষণ-হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে।

ঘাতক নজরুল ইসলাম জানিয়েছে, সে তার কাকরল ক্ষেতে বৃষ্টির জমা পানি নামিয়ে বাড়ি ফেরার সময় পাটক্ষেতের পাশে সাদিয়া আক্তার টুনি ওরফে বৃষ্টিকে দেখতে পেয়ে ধর্ষণের জন্য জড়িয়ে ধরে। এ সময় শিশুটি এ কথা তার মা-বাবার কাছে বলে দিবে বলে জানালে নজরুল মেয়েটির মুখ চেপে নিকটবর্তী পাটক্ষেতের ভিতরে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে সে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় সাদিয়া আক্তার টুনি ওরফে বৃষ্টি বাঁচার চেষ্টায় নড়াচড়া করলে নজরুল মুখ এবং গলা সজোরে চেপে ধরে। ধর্ষণ শেষে হত্যার পর নজরুল ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বাড়িতে গিয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে থাকে। পরবতীতে সে গা ঢাকা দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় পলাতক হয়ে সর্বশেষ ঢাকার আশুলিয়ায় অবস্থান করে।

কিশোরগঞ্জ পিবিআই এর একটি বিশেষ টিম মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) ভোরে ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার বাড়ইপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘাতক নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর আদালতে পাঠানো হলে নজরুল ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাদ্দাম হোসেন ১৬৪ ধারায় নজরুল ইসলামের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

নজরুল ইসলাম কটিয়াদী উপজেলার দক্ষিণ লোহাজুরী গ্রামের ছমর উদ্দিনের ছেলে।

অন্যদিকে নিহত সাদিয়া আক্তার টুনি ওরফে বৃষ্টি একই গ্রামের চুন্নু মিয়ার মেয়ে ও লোহাজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

কিশোরগঞ্জ পিবিআই এর পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন ঘাতক নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার এবং ১৬৪ ধারায় নজরুল ইসলামের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পিবিআই এর পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন জানান, গ্রামের পাশে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে প্রতিদিনের মতো গত ২রা জুলাই সকালে চুন্নু মিয়া মাছ ধরতে যাওয়ার সময় মেয়ে সাদিয়া আক্তার টুনি ওরফে বৃষ্টিকে সাথে নিয়ে যায়।

ওইদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে মাছ ধরতে না পারায় চুন্নু মিয়া মেয়ে বাড়িতে চলে যেতে বলেন। মাছ ধরা শেষে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাড়িতে ফিরে মেয়েকে না পেয়ে খোঁজাখুজি শুরু করেন।

এক পর্যায়ে জয়নালের পাটক্ষেতে দুই পা কাঁচা পাট গাছে পেঁচানো এবং গলায় ওড়না দিয়ে পেঁচানো অবস্থায় সাদিয়া আক্তার টুনি ওরফে বৃষ্টির মরদেহ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় পিতা চুন্নু মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে কটিয়াদী থানায় মামলা দায়ের করেন। এ হত্যাকাণ্ডের পর পিবিআই, কিশোরগঞ্জ জেলার ক্রাইমসিন ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ছায়া তদন্ত শুরু করে।

ধর্ষণ করে হত্যা মামলাটি পিবিআই সিডিউলভূক্ত হওয়ায় পিবিআই গত রোববার (১১ জুলাই) মামলাটি অধিযাচন করে পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ সাখরুল হক খান এর উপর তদন্তভার অর্পণ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category