আজ ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

কিশোরগঞ্জের নিকলীতে খাবার পানির তীব্র সংকট

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি সাদেক মিয়া : চৈত্রের প্রচন্ড খরতাপ ও ভুগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার বেশির ভাগ নলকুপে পানি উঠছেনা। ফলে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটে প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামের সাধারন মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন। অনেকেই দুরদুরান্ত থেকে বিশুদ্ধ খাবার পানি সংগ্রহ করতে দূর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। তাছাড়া, সাব-মার্সেবল পাম্পসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক মোটরও জ্বলে যাওয়ায় সেচ সংশ্লিষ্ট কৃষক ও সাধারন মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানাযায়, গত এক মাসে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রায় অর্ধ-শতাধিক শিশু-বৃদ্ধ ডায়রিয়া ও পানি বাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রােেন্তর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।

স্থানীয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন সরকারী, বেসরকারী ও ব্যক্তি উদ্যোগে প্রায় ৩০ হাজার নলকুপ থাকলেও কেবল মাত্র গভীর নলকুপ ছাড়া বেশির ভাগ নলকুপে পানি উঠছেনা। এতে কেউ কেউ বিভিন্ন উৎস থেকে পানি সংগ্রহ করে ফিটকিরি ও পানি শোধন ট্যাবলেট দিয়ে পরিবারের খাবার পানির চাহিদা পূরণ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

উপজেলার সদরের তৈলিয়া হাটির বিল্লাল মিয়া বলেন, তাঁদের বাড়িতে বসানো টিউবওয়েলে মাসখানেক ধরে ঠিকভাবে পানি উঠছে না। এ কারণে বাধ্য হয়ে পাশের গভীর নলকূপ থেকে সিরিয়াল ধরে পানি আনতে হচ্ছে। সিংপুর গ্রামের কাবিল সর্দার বলেন, গভীর নলকূপ থেকে পানি ওঠানোর সময় প্রচুর শক্তি প্রয়োগ করতে হচ্ছে। ৫০টি চাপেও ছোট এক কলস পানি ওঠানো সম্ভব হচ্ছে না। সাহা পাড়া গ্রামের নয়ন সাহা বলেন, ২৫ লিটার একটি বালতি ভরতে ৩০ মিনিট সময় লেগে যায়।

উপজেলার জারুইতলাা ইউনিয়নের গাছতলা গ্রামের সুরুজ মিয়া বলেন, পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় ধানক্ষেতে পানি সেচ দিতে গিয়ে এলাকার কৃষকরা বেশ বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ ব্যবস্থায় পানি সেচ দিতে গিয়ে বিঘাপ্রতি কৃষকদের প্রায় এক হাজার টাকা খরচ বেড়েছে।

নিকলী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কারার শাহরিয়ার আহমেদ তুলিপ জানান, ভূগর্ভস্থ পানিরস্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এলাকায় গভীর নলকূপ ও সেচ পাম্প থেকে পানি ওঠাতে মানুষের বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, প্রতি বছর চৈত্র মাসে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নীচে নেমে যাওয়ায় গভীর নলকুপ দিয়ে পানি উঠলেও অগভীর ও সাধারন নলকুপ গুলো থেকে পানি উঠছেনা। তাই তিনি চলমান পরিস্থিতিতে পানির প্রবাহ নিশ্চিত করতে সাব-মার্সেবল পাম্প গুলো নিচে স্থাপনের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ ছাড়াও নিকলী উপজেলার সদরের সাত কিলোমিটার পাইপ লাইেনের মধ্যমে পানি সরবরাহর কাজ চলমান রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     More News Of This Category