আজ ১৯শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

কিশোরগঞ্জে ক্যান্সার চিকিৎসা সেবা চালুর দাবী সচেতন মহলের

প্রতিনিধি সাদেক মিয়া: কিশোরগঞ্জে ক্যান্সার চিকিৎস সেবা চালুর দাবী জানিয়েছেন জনতা ও ভূক্তভোগীরা। জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ জেলার বেশির ভাগ মানুষের চিকিৎসা স্থানীয় ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ, ঢাকায় বা দেশের বাইরে চিকিৎসা করবেন এমন মানুষের সংখ্য খুবই সীমিত। কিশোরগঞ্জে চিকিৎসার জন্য যারা বেসরকারী হসপিটাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছে তাদের অনেকেই এখনো আনাড়ি। অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসকরা রোগ নির্ণয় না করেই উল্টোপাল্টা ওষধ (এন্টিবায়োটিক) দিয়ে রোগীকে আরো খারাপ অবস্থায় নিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন একাধিক ব্যক্তি। তবে সব চিকিৎসকরাই যে এমনটা করেন তা’ নয় বলেও জানিয়েছেন তারা। কিশোরগঞ্জে ক্যান্সার ব্যতিত অন্যান্য রোগের ভালো চিকিৎসার সুনাম রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ডাক্তারগণও প্রশংসিত হয়েছেন। তবে ক্যান্সার রোগের চিকিৎসা দেওয়ার মতো চিকিৎসক বা চিকিৎসা ব্যবস্থা কিশোরগঞ্জে এখনো গড়ে উঠেনি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন অনেকেই মৃত্যুর আগে জানতেই পারছেন না যে তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। কিশোরগঞ্জের মতো ভিভিআইপি ও ভিআইপি জেলায় ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধির চিকিৎসা নেই ভাবতেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন রোগীরা।
নিকলীর সমাজকর্মী সফিকুল ইসলাম বলেন, আমার আম্মা গলার ক্যান্সারে আক্রান্ত, ঢাকায় চিকিৎসা করতে গিয়ে কঠিন মুহুর্তের মুখে পড়তে হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা করিয়েও মানসিকভাবে আস্থা রাখতে পারছিলাম না, পরবর্তীতে আমার পরিচিত সিনিয়র স্টাফ নার্সের পরামর্শে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করাই। আল্লাহর রহমতে সেখানে ভালো চিকিৎসা পাচ্ছি। কেমোথেরাপি দেওয়ার পর আম্মার অবস্থা এখন উন্নতির দিকে। এখন রেডিওথেরাপি নিয়ে বিপাকে পড়েছি। চেষ্টা করছি রেডিওথেরাপি দেওয়ার, জানি না কবে দিতে পারবো।
জেলা সদরের রশিদাবাদের বাসিন্দা ক্যান্সারে আক্রান্ত মঞ্জিল মিয়া বলেন, কয়েক মাস আগে আমার ক্যন্সার হয়েছে বুঝতেই পারিনি। ঢাকার বিশেষজ্ঞদের তত্ত¡াবধানে চিকিৎসা করলে তা’ ধরা পড়ে। বিছানায় শায়িত রয়েছি। সাহস পাচ্ছি না এখন আর ঢাকায় গিয়ে কেমোথেরাপি দিতে।

জেলা সদরের মহিনন্দ ইউনিয়নের বাসিন্দা গত ৬ মাস যাবত রোগ শয্যায় শায়িত করিম সরকার বলেন, দিনে দু মুঠো পেঠ ভরে ভাতই খেতে পারি না, এখন চিকিৎসা করাবো কেমন করে। পরিবারের একমাত্র রোজগারী ব্যক্তি বিছানায় শায়িত হওয়ার পর থেকে পরিবার পরিজন ও সন্তানাদি নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তিনি। বিভিন্ন স্থানে আবেদন জানিয়েও পাচ্ছেন না কোনো সহায়তা। ফলে মানুষ দেখলেই চোখের কোণের পানি মুছেন আর ফ্যাল ফ্যলিয়ে থাকিয়ে থাকেন। লাজে বলতে পারছেন না আমাকে একটু সহায়তা করেন। এছাড়াও জেলায় আরও অনেক রোগী রয়েছেন যারা অর্থাভাবে ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা করাতে পারছেন না।
কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. মুজিবুর রহমান বলেন, কিশোরগঞ্জে ক্যন্সার চিকিৎসা সেবা চালুর কোন পরিকল্পনা আপাতত নেই। তবে একটি ক্যন্সার হাসপাতাল স্থাপিত হলে জেলার ক্যন্সার আক্রান্তরা উপকার পেতো।
কিশোরগঞ্জে ক্যান্সার চিকিৎসার ব্যবস্থা হলে অন্তত কিশোরগঞ্জ জেলার রোগীদেরকে ঢাকায় যেতে হতো না। ঢাকার হসপিটালগুলোতেও চাপ কমতো। তাই কিশোরগঞ্জে দ্রæত ক্যান্সার চিকিৎসা সেবা দেওয়ার মতো একটি হসপিটালের খুব প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন কিশোরগঞ্জ বাসী ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     More News Of This Category