আজ ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৬ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

কিশোরগঞ্জে ক্লিনিকে চুরি হওয়া জিনিস উদ্ধার না হওয়ায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি সাদেক মিয়া : কিশোরগঞ্জে হেলথ এইড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীর টাকা,মোবাইল, চেকবই ও স্বর্নালাংকার চুরির ঘটনায় কোন প্রতিকার না পেয়ে রবিবার সকালে কিশোরগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছে এক ভুক্তভোগী ও তার পরিবার।

মানববন্ধন শেষে সিভিল সার্জন এ-র নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে শাহানা বেগম (৩৮), অভিযোগপএে ও মানববন্ধনে তাদের দাবি, গত ১৭/১২/২০২১ ইং তারিখে তিনি অসুস্থ হয়ে কিশোরগঞ্জ আওয়ামীলীগ অফিসের সামনের হেলথ এইড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয় শাহানা আক্তার । পরবর্তীতে গত ২৩/১২/২০২১ ইং সকাল ৭.১৮ মিঃ এই ক্লিনিকের দায়িত্বরত নার্স রিয়া (২২) আমাকে ( শাহানা)কে ইনজেকশন দেওয়ার জন্য ডাক দেয় । তখন আমার জ্যা মিনা আক্তার দরজা খুলে দিয়ে নার্স রিয়াকে দরজায় রেখে ওয়াশ রুমে চলে যায়। তখন আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। কিছু সময় পর রিয়া এসে আমাকে ডেকে তুলে বলে, আপনার মোবাইল ও ব্যাগ চুরি হয়ে গেছে। আমি খুঁজে আমার ব্যাগ ও মোবাইল না পেয়ে বিষয়টি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও আমার চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসককে জানিয়েও কোন ফল হয়নি। পরে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি জি.ডি করি, যাহার নং-১০৭৭ এবং অভিযোগ দায়ের করি। জি.ডি’র প্রেক্ষিতে থানা পুলিশ মিঠামইন থেকে এস.আই লিটন গত ০৩/০৩/২০২২ ইং তারিখে আমার মোবাইলটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয় সেই সাথে আমি জানতে পারি এই ক্লিনিকের নার্স রিয়ার বাড়ীও মিঠামইন। এমনকি ক্লিনিক মালিক পক্ষের একজনের বাড়ীও ঔএলাকায় । আমি খোঁজ নিয়ে ও ক্লিনিকের সি.সি ক্যামেরার ফুটেজে জানতে পারি ক্লিনিকে ঘটনার দিন সকাল ৭.১৫ মিঃ মূল গেইটটি খোলা হয়নি। ফলে ৭.১৮ মিঃ ব্যাগ ও মোবাইল চুরি করতে বাহিরের লোক আসা সম্ভব নয়। উক্ত ঘটনায় নার্স ও দায়িত্বরত লোকজনই জড়িত বলে আমি মনে করি। উল্লেখ্য যে, আমার ব্যাগে নগদ ৩০,০০০/- (ত্রিশ হাজার) টাকা, ০৪ ভরি স্বর্ণ ও ইসলামী ব্যাংক কিশোরগঞ্জ শাখার একটি চেক বই, যাহার একাউন্ট নং – ১৮১১৮, ইসলামী ব্যাংক কিশোরগঞ্জ শাখার একটি এটিএম কার্ড এবং আমার স্বামীর স্মার্ট কার্ডও ছিলো। বিষয়টি নিয়ে আমি ও আমার আত্নীয়রা বার বার ক্লিনিক মালিক কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেও কোন সুরাহা হয়নি। বরং মালিক পক্ষের মিঠু/ লিটু নামের ব্যক্তি আমাদের সাথে খারাপ আচরণ করেন। সেই সাথে থানায় অভিযোগ করার পর ০১৭১৮-৫৯১২২৩ নম্বর থেকে আতিক নামে পরিচয় দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য বেশ কয়েক বার চাপ সৃষ্টি করে । আমি মোবাইল নম্বরটি আমার ইমুতে সেভ করে জানতে পারি নম্বরটি মামুন নামের একজনের উক্ত ঘটনায় আমি নগদ টাকাসহ ৪ লাখ টাকার মালামাল চুরির সাথে জড়িত এসব নার্স,কর্তৃপক্কের বিরুদ্ধে তদন্ত পৃর্বক ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রসাশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি কামনা করেন। তিনি আরও জানান গত ৬/৭মার্চ অনলাইন ও প্রিন্ট পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর গত ০৮ মার্চ সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জ মডেল থানার এস.আই হুমায়ুন আমাকে নিয়ে কিশোরগঞ্জস্থ হেল্থ এইড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লোকজনের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ ও জিজ্ঞাসা বাদ করে তখনও নার্স রিয়া উপস্থিত ছিল না এমনকি পরে এসে সাক্ষাৎ করার কথা থাকলেও সে আসেনি কর্তৃপক্কের দাবি সে ছুটিতে । এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জের দায়িত্বরত সিভিল সার্জন ফোনে আমার আত্মীয় (সাংবাদিক) কে আশ্বাস দিয়ে ছিল বিষয়টি তদন্ত করবে এর পরও কোনো সুরাহ হয়নি। ফলে উক্ত বিষয়ে আমি মানসিকভাবে মর্মাহত বলে বক্তব্যে তাঁর পরিবারের লোকজন বলেন। বিষয়টি নিয়ে কিশোরগঞ্জ সিভিল সার্জন সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ কপি পেয়েছি আমি যথাযথ ব্যবস্থা নেব তবে পুলিশের এখানে ভুমিকা বেশি নিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     More News Of This Category