আজ ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৬ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

কিশোরগঞ্জে ১০ মাসে ৫৮টি ধর্ষণ, ১৯৬টি নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা

প্রতিনিধি এনামুল হক : কিশোরগঞ্জ জেলায় গত বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে ৫৮টি ধর্ষণ এবং ১৯৬টি নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা হয়েছে। এর মধ্যে জেলার তিন উপজেলা কিশোরগঞ্জ সদরে ৮, হোসেনপুরে ২ ও পাকুন্দিয়ায় ৩টি মিলিয়ে মোট ১৩টি ধর্ষণ এবং কিশোরগঞ্জ সদরে ৩৮, হোসেনপুরে ২ ও পাকুন্দিয়ায় ১৬টি মিলিয়ে মোট ৫৬টি নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা হয়েছে।

এই তিন উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে গত বছরের জুলাই থেকে চলতি মার্চ মাস পর্যন্ত ৯ মাসে মোট ১২২টি বাল্যবিয়ে সংঘটিত হয়েছে। এছাড়া এই সময়ে ১৫৭টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। ইউনিয়নগুলো হচ্ছে, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল, মারিয়া ও বিন্নাটি, পাকুন্দিয়া উপজেলার চন্ডিপাশা ও সুখিয়া এবং হোসেনপুর উপজেলার শাহেদল ও পুমদী।

এই সাত ইউনিয়নের মধ্যে হোসেনপুরের পুমদী ইউনিয়নে বাল্যবিয়ের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। গত ৯ মাসে সেখানে ৩১টি বাল্যবিয়ে সংঘটিত হয়েছে ও ৩২টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হয়েছে।

এছাড়া সদরের বিন্নাটি ইউনিয়নে ৩২টি বাল্যবিয়ে সংঘটিত হয়েছে ও ১৭টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হয়েছে।

অন্য পাঁচটি ইউনিয়নের মধ্যে সদরের যশোদলে ১৪টি বাল্যবিয়ে সংঘটিত হয়েছে ও ২৮টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হয়েছে, হোসেনপুরের শাহেদলে ৯টি বাল্যবিয়ে সংঘটিত হয়েছে ও ২৬টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হয়েছে, পাকুন্দিয়ার সুখিয়া ইউনিয়নে ১৩টি বাল্যবিয়ে সংঘটিত হয়েছে ও ২২টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হয়েছে, চন্ডিপাশা ইউনিয়নে ৯টি বাল্যবিয়ে সংঘটিত হয়েছে ও ২২টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হয়েছে এবং সদরের মারিয়া ইউনিয়নে ১৪টি বাল্যবিয়ে সংঘটিত হয়েছে ও ১০টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হয়েছে।

নানা কৌশলে এসব বাল্যবিয়ে সংঘটিত হচ্ছে। অভিভাবকদের অসচেতনতা, আইন প্রয়োগের অভাব, কিছু অসাধু কাজী বয়সের সনদ যাচাই না করে শুধু হলফনামা দেখে বাল্যবিয়ের রেজিস্ট্রেশন করায় এসব বাল্যবিয়ে হচ্ছে।

এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে পরিবার ও সমাজে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে গণমাধ্যম।

বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের বত্রিশ এলাকার পপি-পার্ট কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় কেস স্টাডি বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানানো হয়।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পপি কর্তৃক বাস্তবায়িত নারী ও কিশোরীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ (একাত্ত) প্রকল্প এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

এতে প্রকল্পের আওতাভুক্ত কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল, মারিয়া ও বিন্নাটি, পাকুন্দিয়া উপজেলার চন্ডিপাশা ও সুখিয়া এবং হোসেনপুর উপজেলার শাহেদল ও পুমদী এই সাত ইউনিয়নের বাল্যবিয়ের প্রবণতা ও পরিস্থিতির ওপর বিশদ আলোচনা করা হয়।

সভায় নারী ও কিশোরীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ (একাত্ত) প্রকল্পের সমন্বয়কারী মুহাম্মদ ফরিদুল আলম মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টশনের মাধ্যমে এই সাতটি ইউনিয়নের বাল্যবিয়ে এবং পারিবারিক সহিংসতা পরিস্থিতি তুলে ধরেন।

মতবিনিময় সভায় প্রকল্পের সদর উপজেলার কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম, হোসেনপুর উপজেলার কর্মকর্তা সালমা পারভীন, পাকুন্দিয়া উপজেলা কর্মকর্তা শাহীন হায়দার প্রমুখ ছাড়াও জেলা পর্যায়ে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     More News Of This Category