আজ ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

টাকা ছাড়াই কিনলেন ঈদের সব বাজার, ৩শ’ পরিবারে ঈদের খুশি

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি সাদেক মিয়া: বাড়ির আঙ্গিনায় নির্ধারিত দুরত্ব রেখে টেবিলে সাজানো শাড়ি-লুঙ্গি, পোলাও চাল, দুধ, চাল, ডাল, চিনি, লবণ, সাবান-শেম্পুসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। আছে মাস্ক ও স্যানিটাইজার। প্রতিটি টেবিলের পেছনে এক জন করে বিক্রেতা দাঁড়ানো।

কোন হৈ-হুল্লোড় নেই। চার থেকে পাঁচ জন ক্রেতা প্রবেশ করছেন বাজারে। সেখান থেকে যে যার মতো পছন্দের পণ্য নিয়ে যাচ্ছেন ক্রেতারা। এ জন্য গুণতে হচ্ছে না কোন টাকা!

বুধবার (১২ মে) দুপুরে কিশোরগঞ্জ শহরের নগুয়া বিন্নগাঁও এলাকার ইব্রাহিম ম্যানশনের আঙ্গিনায় ব্যাতিক্রমি এ বাজারের আয়োজন করেন কিশোরগঞ্জ সম্মিলিত নাগরিক ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী এবং জেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এনায়েত করিম অমি।

পরিবেশ বান্ধব মানবিক এই ঈদ আনন্দ বাজার থেকে সামাজিক দুরত্ব ও স্বাস্থ্য বিধি মেনে বিনামূল্যে ঈদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনেছেন ৩শ’ দরিদ্র মানুষ।

আর এ বাজার থেকে বিনামূল্যে শাড়ি-লুঙ্গিসহ উন্নত মানের ঈদ সামগ্রী পেয়ে খুশি ক্রেতারা। চলমান করোনা পরিস্থিতিতে অভাবি মানুষের ঘরে ঈদের আনন্দ পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে এমন আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

বাজারের মূল গেইটের বাইরে লাইনে দাঁড়ানো ক্রেতাদের মধ্য থেকে জীবানুনাশক স্প্রে, হাতধোয়া ও মাস্ক পরার পর বাজারে প্রবেশ করতে দেয়া হয় ক্রেতাদের।

বাজারে প্রবেশের প্রথম টেবিলে রাখা হয় বাজারের ব্যাগ। ব্যাগ হাতে নিয়ে ক্রেতারা প্রতিটি টেবিল থেকে একটি করে পণ্য নিজের হাতে ব্যাগে ভরে ফিরেন বাড়িতে। ভিড় এড়িয়ে স্বাচ্ছন্দে প্রয়োজনীয় পণ্যটি কিনতে পারলেও দিতে হচ্ছে না মূল্য। এমন আয়োজনে খুশি ক্রেতারা।

বেশ কয়েকজন উপকারভোগী জানান, ‘এই বাজারে সওদা নিতে এসে নিজের ধারণাই পাল্টে গেছে। বিনামূল্যে যে পরিমাণ জিনিস পাইলাম- তা দিয়ে ঈদের পরও কয়েক দিন চলবে। আর করোনা থেকে কিভাবে সচেতন হওয়া যায় সেটাও শিখলাম।’

কিশোরগঞ্জ সম্মিলিত নাগরিক ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী এবং জেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এনায়েত করিম অমি বলেন, চলামান করোনা সংকটে অসহায় মানুষের মাঝে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে এই ঈদ আনন্দ বাজার বসানো হয়েছে। বাজার থেকে ৩শ’ দরিদ্র মানুষ কোন টাকা ছাড়াই আনন্দের সাথে ঈদের কেনাকাটা করেছেন। তাদের এই আনন্দই আমাদের আয়োজনের সার্থকতা।

ব্যতিক্রমি মানবিক ঈদ আনন্দ বাজারের মাধ্যমে তিনশত পরিবারে বিনামূল্যে ঈদের প্রয়োজনীয় সামগ্রীতে ঠাসা ব্যাগ নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

এই বাজার দেখতে গিয়েছেন শহরের নানা শ্রেণিপেশার বিশিষ্টজনও। তাদের মধ্যে ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক বাদল রহমান সিআইপি, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিলকিছ বেগম, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সাবেক ট্রাস্টি রিপন রায় লিপু, যুবলীগ নেতা রাশেদ জাহাঙ্গীর পল্লব, গোল্ডেন কিশোরগঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক শেখ মলাই।

তারা বাজার পরিদর্শন করে এ রকম একটি মানবিক ও মহৎ আয়োজনের জন্য এনায়েত করিম অমিকে ধন্যবাদ জানান।

প্রসঙ্গত, গত বছর করোনা মহামারির শুরু থেকেই এনায়েত করিম অমির ব্যাক্তিগত উদ্যোগে শহরে হাত ধোয়ার বেসিন স্থাপন ছাড়াও কয়েক হাজার দরিদ্র মানুষের বাড়িতে খাবার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। শিশুদের দেয়া হয় শিশু খাদ্য।

এছাড়া গত বছরের ঈদুল ফিতরের আগেও পরিবেশ বান্ধব মানবিক ঈদ আনন্দ বাজার আয়োজন করে দুইশত দরিদ্র পরিবারে ঈদের খুশি ছড়িয়ে দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     More News Of This Category