আজ ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

টাকা ছাড়া মিলছে না বয়স্ক-বিধবা ভাতা কার্ডের কোড

প্রতিনিধি এনামুল হক: ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নে বয়স্ক, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্ত ও প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড প্রদানে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অর্থের বিনিময়ে ভাতা কার্ডে কোড (নাম্বার) প্রদানের অভিযোগ পাওয়া যায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাধীন আউটসোর্সিং এ কর্মরত সদস্যদের বিরুদ্ধে। ভাতা বইয়ের কার্ডপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে পাওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার (২৪ মে) সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায় ভোলা সদর উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাধীন আউটসোর্সিং এ কর্মরত আবদুর রহিম ও মো. কামাল হোসেন ও পূর্ব ইলিশ ইউপি চেয়ারম্যান এর একান্ত সহচর মাসুম মাঝি নেতৃত্বে চলছে টাকার বিনিময়ে ভাতা কার্ড যাচাই-বাছাই ও নগদ মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট খোলার কাজ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমন একাধিক লোক জানান, সদর উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের ফিল্ড সুপার ভাইজার শেখর দে (শেখর বাবু) নির্দেশে আবদুর রহিম, মো. কামাল হোসেন ও মাসুম মাঝি ভাতার কার্ডের নামে অবৈধ উপায়ে টাকা উত্তলন করছেন।

ইউনিয়ন পরিষদে বয়স্ক ভাতার কার্ড করতে আশা মালেক সরদার অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি তো জানি না কার্ড করতে টাহা লাগে। আমি আমার ভোটার কার্ড স্যারে গো দারে দিছি। টাহা দেইনাই দেইখা আমার কার্ড হয় নাই।’

মালেক সরদারের মতো বয়স্ক ও বিধবা ভাতার কার্ড করতে আশা ছালেহা বেগম ও জয়বুন নেছা বলেন, নগদের অ্যাকাউন্ট খোলার লইগা আমাগো কাছ থেইকা একশো টাকা করে নিতেছে। না দিলে কার্ডে নাম্বার দেয় না।

কলেজ ছাত্র রাকিব বলেন, ‘আমার দাদার বয়স্ক ভাতার কার্ড করতে আসছি। এখানে দায়িত্ব থাকা আবদুর রহিম যে টাকা দেয় তার ভোটার আইডি কার্ডে একটা সিরিয়াল নাম্বার দিয়ে দেয়। সিরিয়াল নাম্বার অনুযায়ী নগদে একাউন্ট খোলা হয় এবং কাগজ যাচাই বাছাই করা হয়। আমার টাকা দিতে দেরি হইছে বিধায় আমার কার্ডে কোড নাম্বার দেয়নি।’

এরকম একাধিক লোকের অভিযোগ পাওয়া গেছে পূর্ব ইলিশা ইউনিয়ন পরিষদে ভাতা কার্ড যাচাই-বাছাই ও নগদ অ্যাকাউন্ড খুলতে আসা লোকের কাছ থেকে।

অভিযুক্ত আবদুর রহিমের কাছে টাকা নেওয়ার বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখানে অনেক মানুষ গরমে সবাই অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। তাই আগে যাওয়ার জন্য কেউ কেউ আমাকে টাকা দেওয়ার চেষ্টা করছে আমি নেইনি।’

আরেক অভিযুক্ত মো. কামালের কাছে জানতে চাইলে তিনি ক্যামেরার ভিডিও বন্ধ রাখতে বলে জানান, এই টাকাটা মূলত এমঅইসি কোডের জন্য নেওয়া হয়েছে। এটা অফিসে লাগে তাই নেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত পূর্ব ইলিশ ইউপি চেয়ারম্যান এর একান্ত সহচর মাসুম মাঝির সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমি এই বিষয়ে কিছুই জানি না। সমাজ সেবার স্যারেরা জানে।

এদিকে, সদর উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের ফিল্ড সুপার ভাইজার শেখর দে’র (শেখর বাবু) সাথে ঘটনাস্থলেই জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার কোনো লোক টাকা নিয়ে কার্ড দিয়েছে এমন কোনো অভিযোগ আমি এখনো পাইনি। তা ছাড়া কার্ড করতে কোনো টাকার প্রয়োজন হয় না। আর যারা এই কাজ করছে তারা আমাদের লোক না, তারা নগদের লোক। তাদের জন্য আমি কোনো দায়ভার নিতে পারবো না। এর বাইরে আমি কিছুই বলতে পারবো না।’

ভোলা জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম জানান, অবৈধভাবে টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার জিটুপির মাধ্যমে আমরা টাকা দেব, তারা মোবাইল অ্যাকাউন্টে টাকা পাবে। সামাজিক দূরত্বের আওতায় সরকার টাকা দিচ্ছে, এখানে অবৈধভাবে টাকা নেওয়ার উপায় নেই। আর যদি কেউ নিয়ে থাকে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     More News Of This Category