আজ ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

ডিসি পারভীনের পরিবারের দখল করা জমি ফিরে পেলেন ভুক্তভোগী

জনতার ডেস্ক: কুড়িগ্রামের সদ্য সাবেক জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী, ভাই আব্দুল জব্বার ও পরিবারের সদস্যগণ এবং ইশার উদ্দিন গংদের কর্তৃক দখলকৃত জমি দীর্ঘ ১৩ বছর পর আদালতের রায়ে পৈতৃক ফসলি জমি ফিরে পেলেন জেলার সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের জিয়াবাড়ি এলাকার ভুক্তভোগী আমিরুল ইসলাম গং।বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে আমিরুল ইসলাম গং ৬ দাগে মোট ৩.৬৮ একর জমি তেতুলিয়া সহকারী জেলা জজ আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে পঞ্চগড় জেলা সহকারী জজ এর নাজির মোঃ তমিজ উদ্দিনের মাধ্যমে তারা পৈত্রিক জমি দলিলমূলে ফিরে পান।জানা যায়, আমিরুল গং এর দাদী রমজানী ওরফে রমজানী বিবি ও ছলিম উদ্দিন ভাই-বোন।কিন্তু আমিরুল ইসলাম গং এর দাদী এসএ রেকর্ডীয় মালিক রমজানী ওরফে রমজাদী বিবি এর পুত্র বুধারু মোহাম্মদ মৃত্যু বরণ করলে ওয়ারিশ সূত্রে তার ৩ ছেলে আমিরুল ইসলাম (৫৩),মোখলেছ আলী (৪৫),জমিরুল ইসলাম (৩৮) ও ২ মেয়ে মফিজা খাতুন (৪২) ও শাহিদা আক্তার (৩৭) দলিলমূলে উক্ত জমির মালিক হওয়ায় ভোগদখল থাকাকালীন ইশার উদ্দিন গং ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী গং জাল জলিল দেখিয়ে ৩.৬৮ একর জমি জোর পূর্বক দখলে নেয়।আমিরুল গং দখলে গেলে বিবাদী গণ কুড়িগ্রামের সদ্য সাবেক ডিসি সুলতানা পারভীনের পরিচয় দিয়ে বাদী গণের উপর মামলা দিয়ে ভয়-ভীতি দেখিয়ে তাদের জমি থেকে তাড়িয়ে দেন।বাদী আমিরুল গং উপায়ান্তর না পেয়ে পঞ্চগড় বিজ্ঞ সহকারী দায়রা জজ আদালতে ২০০৬ সালে একটি বাটোয়ারা মামলা করেন এবং ২০১০ সালে বাদী আমিরুল গং মামলার রায় পান।পরে উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্টে আপিল করে ইশার উদ্দিন ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী গং।মহামান্য হাইকোর্ট মামলাটি খারিজ করে পুনরায় ২০১১ সালে বাদী আমিরুল গংয়ের নামে রায় প্রদান করেন।কিন্ত তাতেও বিবাদী পক্ষ সন্তুষ্ট না হয়ে পুনরায় ২০১৮ সালে পঞ্চগড় সহকারী জজ তেতুলিয়া আদালতে মামলাটি স্থানান্তরিত হলে আপিল করে।বিবাদী পক্ষের জাল দলিল প্রমাণিত হলে মামলাটি বিজ্ঞ সহকারী জজ লিটন চন্দ্র রায় মামলাটি এসএ রেকর্ড মূলে বাদী আমিরুল গং কে ১২/০৩/২০২০ সালে রায় প্রদান করে।এদিকে তফসিল অনুযায়ী মৌজা হাফিজাবাদ জে-এল নং-১৯ এসএ খতিয়ান নং ৮৭ এর দাগ নং এসএ ২৬৯,২৭১,৩৬২,৩১৫ যার মোট জমির পরিমাণ ৯.৮০ একর জমির মধ্যে ৪ দাগে ৩.২৭ একর জমি এবং একই মৌজার এসএ খতিয়ান নং ৮৬ যার এসএ দাগ নং ৩২৭,৩৩০ এ ২ দাগে মোট জমির পরিমাণ ১.২৩ একর দেওয়ানি কার্যবিধ আইনের ২১ অর্ডার ৩৫ রুল অনুযায়ী বাদীকে ২ খতিয়ানে ৬ দাগে সর্বমোট ৩.৬৮ একর জমি বিজ্ঞ সহকারী জজ আদালত তেঁতুলিয়া দলিলমূলে আমিরুল ইসলাম গং কে দখলের আদেশ দেন।জমির মালিক আমিরুল ইসলাম জানান, দীর্ঘ দিন ধরে আমাদের পৈতৃক জমি ইশার উদ্দিন গং ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী গং জাল দলিলে অবৈধভাবে ভোগ-দখল করে আসছিল।তারা আমাদের নামে অনেক মিথ্যা মামলা দেয়।তারা কুড়িগ্রামের ডিসি সুলতানা পারভীনের বংশধর হওয়ায় তার পরিচয় দিয়ে ভয়-ভীতি দেখান। পরে আমরা বাটোয়ারা মামলা করি ২০০৬ সালে। তারা আপিল করে হাইকোর্টে ২০১০ সালে এবং তাদের আপিল খারিজ করে আদালত।আমরা ২০১১ সালে আবার রায় পাই।আজ দীর্ঘ ১৩ বছর পর আদালতের রায়ে জমি ফিরে পেয়েছি। আজ আমাদের জমি ফিরে পেয়ে আমরা খুব আনন্দিত।পঞ্চগড় জেলা দায়রা জজ আদালতের নাজির মোঃ তমিজ উদ্দিন জানান, বিজ্ঞ জেলা সহকারী জজ আদালতের রায়ে আমিরুল ইসলাম গং জমি ফিরে পান।আজ বুধবার ( ১৮ মার্চ) দুপুরে দলিলাদি ও প্রমানের ভিত্তিতে আমরা আজ ঢাক-ঢোল পিটিয়ে জমির মালিক গণকে জমি বুঝিয়ে দিয়েছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     More News Of This Category