আজ ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৭ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

পরিবেশ দূষণে আমাদের ভূমিকা

শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রতিনিধি: মোঃ জুনেদ আহমদ , বর্তমান বিশ্বে পরিবেশগত সমস্যা একটি মারাত্মক সমস্যা। একটু লক্ষ্য করলেই আমরা দেখতে পাই, নিজেদের অবহেলার কারণেই প্রতিদিন আমরা চারপাশে তৈরি করছি বিষাক্ত পরিমণ্ডল এবং নিজেদের ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ঠেলে দিচ্ছি এক নিঃশব্দ বিষক্রিয়ার মধ্যে। ফলে পরিবেশের মারাত্মক অবনতি ঘটছে, যা আমাদের জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ। এক সময় বাংলাদেশ ছিল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি, এর মাঠ-ঘাট, পাহাড়, নদী-নালা, বায়ু সবকিছুই ছিল বিশুদ্ধ আর নির্মল। কিন্তু বড়ই পরিতাপের বিষয় মানুষের তথা প্রাণীকূলের বেঁচে থাকার পরিবেশের প্রধান তিনটি উপাদান, যথা-মাটি, পানি ও বায়ু নানা উপায়ে দূষিত হচ্ছে; এ দূষণ আমরা ঘটাচ্ছি কখনো জেনে আবার কখনো না জেনে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধি, শিল্পায়ন ও নগরায়ণ ও অবাধে বৃক্ষ নিধন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় সচেতনতার অভাবে আমাদের বর্তমান পরিবেশ আজ বসবাজের অযোগ্য হয়ে উঠেছে। কল-কারখানা এবং যানবাহনের নানা রকম ক্ষতিকারক গ্যাস, ইটের ভাটা কালো ধোঁয়া, শিল্পের বিষাক্ত বর্জ্য প্রভৃতির কারণে বাংলাদেশের পরিবেশ আজ মারাত্মক হুমকীর সম্মুখীন। অবাধে বৃক্ষ নিধনের ফলে বাতাসে অক্সিজেনের মাত্রা নেমে যাচ্ছে দ্রুত, বাড়ছে সিসার পরিমাণ।বিশ্ব মাঝে সব কিছুই সর্বদা পরিবর্তনশীল। প্রাচীনকালের মুক্ত বাসস্থান থেকে শুরু করে আধুনিক ইট পাথরের অট্টালিকা কোনো কিছুই বাদ যায় না এই পরিবর্তনের ছোঁয়া থেকে। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত পরিবেশেরও। তবে পরিবেশের এই পরিবর্তন মূলত মানব সৃষ্ট। মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ফলে সময়ে-অসময়ে পরিবর্তন ঘটে পরিবেশের। একটু উন্নত জীবনের আশায় গ্রামের সহজ-সরল জীবন ত্যাগ করে মানুষ এখন শহরমুখী। ফলে দিন দিন শহরের উপর অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ বাড়ছে। কিন্তু একটুও বাড়ছে না শহরের পরিধি। ক্রমবর্ধমান এই জনসংখ্যার বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। ফলে কুঁড়েঘরের জায়গায় স্থান পাচ্ছে শত শত সুউচ্চ অট্টালিকা। আর এই অট্টালিকা তৈরি করতে যেসব জিনিস ব্যবহার করা হয় তার বেশির ভাগই পরিবেশ দূষণে মারাত্মকভাবে কাজ করে। বিল্ডিং তৈরির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বালু। কাজ করার সময় বালু উন্মুক্ত স্থানে রাখা হয়, যা বাতাসের সঙ্গে মিশে পরিবেশের দূষণ ঘটায়। তাছাড়া বিল্ডিং তৈরির সময় পাইলিং ও ঢালাই কাজে যে-সকল মেশিন ব্যবহার করা হয় তা থেকে উত্পন্ন উচ্চমাত্রার শব্দও পরিবেশ দূষণে বড় ভূমিকা রাখে। অনেক সময় কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য একাধিক বড় বড় মেশিন ব্যবহার করা হয়। যার উত্পন্ন শব্দ আশপাশের অবস্থানরত মানুষের শ্রবণ ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে।
শহরসহ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে রাস্তাঘাট তৈরি করা করা ও ক্ষয়প্রাপ্ত রাস্তাঘাটের মেরামত করা অপরিহার্য। আর এ সকল কাজ করার সময় প্রায় সময়ই নির্মাণ সামগ্রী উন্মুক্ত জায়গায় রাখা হয়। পরিবেশ যাতে দূষিত না হয় সেজন্য প্রায় সময়ই তেমন কোনো প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। শুধু তাই নয়, রাস্তায় পিচ ঢালাই করার সময়ও প্রচুর ধোঁয়া নির্গত হয়, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।পরিবেশ বিপর্যয়ের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে আমাদের এখনই উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন। তাই বর্তমান সরকারের উচিত প্রশাসনিক পদক্ষেপকে কাজে লাগিয়ে বিপন্ন পরিবেশের মরণ ছোবল থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও সুন্দর স্বদেশভূমি নিশ্চিত করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     More News Of This Category