আজ ১৯শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৩রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

“বাল্যবিবাহ থেকে নিজ মেয়েকে বাঁচাতে রিক্সা চালক পিতার কঠিন যুদ্ধ “

প্রতিনিধি নুরুজ্জামান : হেদায়েত, একজন রিক্সা চালক। ঢাকা উত্তরায় রিক্সা চালায়। করোনা মহামারীতে তার রিক্সা চালানো কতটা কঠিন তা ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই। দুই মেয়ে । বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ছোট মেয়ের বয়স ১৪ বছর। স্ত্রী ছোট মেয়ে গ্রামেই থাকেন। ইনকাম ভাল না থাকায় মেয়েকে ৬ ষ্ঠ শ্রেনীতে ভর্তি করতে পারেননি। পুত্র সন্তান নেই তাই ছোট মেয়েকে নিয়ে তার স্বপ্ন ছিল অনেক। কিন্তু করোনায় কঠিন বাস্তবতা।মেয়েটি মাদ্রাসায় ভর্তি হয় লেখা পড়া চালিয়ে নিতে৷ কয়েকমাস আগে পাশের বাড়ির এক পাত্রের জন্য প্রস্তাব আসে। নাবালিকা মেয়েকে বিয়ে দিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানান রিক্সা চালক পিতা। করোনা বাস্তবতা তার স্বপ্নকে হার মানাতে পারেনি। কিন্তু তিনি হয়তো জানতেন না আরো কঠিন বাস্তবতা তার জন্য অপেক্ষা করছিল। তার স্ত্রী,ভাই, ভাবী আত্মীয়সজন পাত্রের পরিবার সবাই মিলে নাবালিকা মেয়ের বিয়ের আয়োজনে ব্যস্ত। ব্যস্ত মেয়েকে রাজী করাতে। মেয়ের বাবাকে কোন ভাবেই রাজি করাতে না পেরে সবাই মিলে মেয়েকে রাজি করিয়ে গোপনে বিয়ের আয়োজন করে ফেলেছে। বিয়ে ৪ জুলাই রাত ৮ টায়। ইমাম কে বলা হয়েছে,টাকা দিয়ে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে বিয়ের কাগজপত্রও রেডি। বিয়ের আগের দিন নাবালিকা মেয়েটি তার বাবাকে ফোন করে জানিয়ে দেন সব। কঠোর লক ডাউন চলাকালে একজন পিতা কতটা কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে ঢাকা থেকে এসেছে তা দিন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিসে বসে সারাদিনের অভুক্ত পিতার কান্নাই বলে দিয়েছে। পরিবার সমাজের কাছে রিক্সা চালক পিতা এতটাই অসহায় ছিল যে তার মেয়ের বিয়ে বন্ধ করা সম্ভব না হওয়ায় মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিসে চলে এসেছে। এখানে এসেও কয়েকঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। সারাদিন দায়িত্ব পালন শেষে যখন সন্ধ্যায় ফিরলাম তখন বাল্য বিবাহ বন্ধ করতে নিজ মেয়েকে নিয়ে আমার কাছে আসা অসহায় পিতার অভিযোগ। পিতা ও মেয়েকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সকল আয়োজনের প্রমান সাথে অপরাধীদের স্বীকারোক্তিও পাওয়া গেছে। অভিযোগ, স্বীকারোক্তি অপরাধীদের মুচলেকা গ্রহন, অর্থদণ্ড দিয়ে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। ঘটনা এখানেই শেষ নয়। মেয়েটির জন্য গ্রামে এই অবস্থায় থাকাটা অনুকূল পরিবেশ নয়। কিন্তু লক ডাউনে তার পিতা তাকে অন্যত্র বা ঢাকায় নেয়ার ব্যবস্থাও করতে পারছেন না। নেই আর্থিক তেমন স্বচ্ছলতা। তাছাড়া পরিবার পরিজন আর পাশের বাড়ির পাত্রের পরিবার সবার সাথে এই জটিলতা তার ও তার মেয়ের জন্য বিরুপ সামাজিক পরিবেশ তৈরি করবে৷ আর এই জন্যই বাল্য বিবাহ রোধে আইন প্রয়োগের চেয়ে সামাজিক সমাধান এবং সচেতনাকে আমরা বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি। মেয়েটি ও তার পিতা যেন সামাজিকভাবে বিরুপ আচরনের স্বীকার না হয় এবং মেয়েটি যেন এই কঠিন সময়টা কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে এই বলে প্রতিবেদকে নিশ্চিত করেন । তাই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেয়েটিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। মেয়েটির লেখাপড়া চালিয়ে নিতে পারে সে উদ্যোগ ও উপজেলা প্রশাসন থেকে নেয়া হয়েছে। সেদিনের অপেক্ষায় যেদিন রিক্সা চালক এই যোদ্ধা পিতা মত সকল পিতা মাতা এগিয়ে আসবে বাল্য বিবাহ রোধে।”বালিকা বধু নয়” এই শ্লোগান নিয়ে এগিয়ে চলুন উপজেলা প্রশাসন হোসেনপুরের সাথে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category