আজ ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

বেদেদের জালে ৫২২ কেজি ওজনের শাপলা পাতা মাছ

প্রতিনিধি নূরুজ্জামান : বরিশাল শহরের উপকণ্ঠে তালতলী নদীতে বেদে সম্প্রদায়ের জালে উঠেছে ৫২২ কেজি (প্রায় সাড়ে ১৩মণ) ওজনের একটি শাপলা পাতা মাছ। যার বৈজ্ঞানিক নাম স্ট্রিং রে। সোমবার দিবগত রাতে  কীর্তনখোল নদীর শাখা তলাতলী নদীতে এই বিশালাকৃতির ওই মাছটি ধরা পরে। পরে নগরীর পোর্ট রোডস্থ পাইকারি মৎস বাজারের ব্যবসায়ী রুবেল মাছটি এনে বিক্রির জন্য নগরীর বিভিন্ন অলিগলি ঘুরে ঘুরে মাইকিং করছে। আর বিশালাকৃতির মাছটিও দেখার জন্য উৎসুকজনতা মাছ বহনকারী ভ্যানটির কাছে ভীর জমাচ্ছে। বিক্রির জন্য প্রতি কেজি মাছের দাম ধরা হয়েছে ৫০০টাকা। সেই হিসেবে এই মাছটি দাম পরে দুই লাখ ৬১ হাজার টাকা।

মাছ বিক্রেতা রুবেল হোসেন বলেন, সোমবার (৩০ আগস্ট) মাঝ রাতে তালতলীতে বেদে সম্প্রদায়ের এক লোকের জালে বড় একটি মাছ ধরা পড়েছে এমন খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যাই। গিয়ে দেখি বিশাল শাপলা পাতা মাছ। তাদের কাছ থেকে ৩৫০টাকা দরে পাইকারি কিনেছি। এখন এটি আমি খুচরা প্রতি কেজি ৫০০ টাকায় বিক্রি করে তাদের টাকা পরিশোধ করবো। বেদেরা ইলিশ ধরার জন্য তালতলী নদীতে জাল ফেলার  কিছুক্ষণ পরে নদীর পানি কমতে থাকে। তারা জাল টানতে গেলে শাপলা পাতা মাছটি জালে জড়িয়ে ওঠে।

মাছ ব্যবসায়ী বলেন, মাছটির অনুমানিক ওজন ৫২২ কেজির মতো হবে। ১৩ মণে কিছু বেশি। বিক্রির জন্য ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে মাইকিং করা হচ্ছে। পোর্ট রোড রসুলপুর মৎস অবতরণ কেন্দ্রে মাছটি কেটে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করবো। লকডাউন, মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞার কারণে গত দুই বছর ধরে মাছ ব্যবসা ভালো চলছিল না। শাপলা পাতা মাছটি যদি বিক্রি করতে পারি তাহলে সেই ক্ষতি কিছু পুষিয়ে উঠতে পারবো। তাছাড়া বেদে জেলেরও ভাগ্য খুলে গেছে। কিন্তু যে বেদের জালে মাছটি উঠেছে তার নাম ঠিকানা বলতে রাজি হননি ব্যবসায়ী রুবেল।

মৎস কর্মকর্তা বিমল চন্দ্র দাস বলেন, আঞ্চলিকভাবে শাপলা পাতা মাছ বলা হলেও এটি হচ্ছে স্ট্রিং রে প্রজাতির মাছ। বৈজ্ঞানিক নাম হিমানটুরাইমব্রিকাটা। এই প্রজাতির মাছ অগভীর সমুদ্রে বেশি পাওয়া যায়। খেতে অনেক সুস্বাদু। আগে সচারচার পাওয়া গেলেও বর্তমানে দুর্লভ হয়ে ওঠছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category