আজ ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ ডিবি পুলিশের ৭ সদস্যের ১২ বছরের কারাদণ্ড

প্রতিনিধি রিমেল ফরিক : কক্সবাজারের টেকনাফের ব্যবসায়ী গফুর আলমকে অপহরণ করে ১৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের মামলায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ৭ সদস্যের প্রত্যেককে পৃথক ধারায় ৫ বছর ও ৭ বছর করে মোট ১২ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে কক্সবাজার জেলা দায়রা ও জজ আদালতে এসটি মামলা শুনানি শেষে রায় ঘোষণা করেন বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল। এসময় ৭ আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

দণ্ডিত আসামিরা হলেন, সাবেক এসআই মোঃ আবুল কালাম আজাদ, এসআই মোঃ মনিরুজ্জামান, এএসআই ফিরোজ আহমদ, এএসআই আলাউদ্দিন, কনস্টেবল মোস্তফা আজম, কনস্টেবল আল আমিন এবং এএসআই মোঃ গোলাম মোস্তফা। পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক ৩৬৫ ধারায় পাঁচ বছর এবং ৩৮৬ ধারায় সাত বছর কারাদণ্ড দেন। তবে উভয় সাজা একসঙ্গে ভোগ করতে হবে। ফলে সাজা সাত বছর বলে গণ্য হবে।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম জানান, ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর কক্সবাজার শহরের থানার পেছনের সড়কের হোটেল আল গনির সামনে থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সাদা পোশাকধারী ব্যক্তিরা টেকনাফের ব্যবসায়ী আবদুল গফুরকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান।

এরপর ‘ক্রসফায়ারে’ মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে তার স্বজনদের কাছে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। এরপরে ১৭ লাখ টাকা দিতে রাজি হয় পরিবার।

তিনি জানান, টাকা পৌঁছে দেওয়া হলে পরদিন ভোররাতে আবদুল গফুরকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুরে ছেড়ে দেওয়া হয়।

বিষয়টি গফুরের স্বজনরা সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা চৌকির কর্মকর্তাকে জানান। রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য সেনাবাহিনীর এই নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন করা হয়েছিল।

পিপি আরও জানান, মুক্তিপণ আদায়কারী ডিবি পুলিশের সদস্যরা মাইক্রোবাসে মেরিন ড্রাইভ সড়কে গেলে চৌকির সেনা সদস্যরা মাইক্রোবাস তল্লাশি করে ১৭ লাখ টাকা পান। এ সময় ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান দৌড়ে পালিয়ে গেলেও বাকি ছয়জনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করেন সেনা সদস্যরা।

সেনা সদস্যরা মুক্তিপণ আদায়কারী ডিবি পুলিশের সদস্যদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি তল্লাশি করে ১৭ লাখ নগদ টাকা পান। এসময় এসআই মোঃ মনিরুজ্জামান মাইক্রোবাস থেকে পালিয়ে গেলেও বাকী ৬ পুলিশ সদস্যকে আটক করেন সেনা সদস্যরা।

অপহরণের ঘটনায় ব্যবসায়ী গফুর আলম বাদী হয়ে ডিবি পুলিশের ৭ সদস্যের বিরুদ্ধে ফৌজদারী দণ্ডবিধির ৩৬৫/৩৮৫/৩৮৬/৩৪ ধারায় টেকনাফ থানায় মামলা করেন।

ঘটনার প্রায় ১০ মাসের মাথায় ২০১৮ সালের আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ৭ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ৭ আসামি বিভিন্ন সময়ে আদালত থেকে জামিন লাভ করেন।

মামলাটির যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে   গত ৫ সেপ্টেম্বর তাদের জামিন বাতিল করে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     More News Of This Category