আজ ১৯শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৩রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ভারসাম্যহীন তরুণীর সন্তান প্রসব, কোলে তুলে নিলেন ইউএনও

প্রতিনিধি এনামুল হক: সন্তানসম্ভবা মানসিক ভারসাম্যহীন এক তরুণীর তিন দিন আগে আগমন ঘটে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পুমদী ইউনিয়নের রামপুর বাজারে। ওই তরুণী সারাদিন বাজার ঘুরে রাতের বেলায় দোকানের সামনেই রাত কাটান। কেউ কিছু খেতে দিলে খান। সোমবার (১২ জুলাই) ভোরে হঠাৎ তার প্রসববেদনা শুরু হয়। এ সময় বাজারে পাশে বসবাসরত ইয়াসমিন বেগম নামের এক নারী বিষয়টি লক্ষ করেন। পরে তিনি দ্রুত কয়েকজন নারীকে বিষয়টি জানান। সেই নারীদের সহায়তায় তিনি তার বাড়িতে নিয়ে যান। সকাল ৭টার দিকে নারীটি একটি ছেলেসন্তানের জন্ম দেন।

এই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাবেয়া পারভেজ। তিনি আসার পর ঘটনার বর্ণনা শোনেন। তারপর অজ্ঞাত ওই তরুণীর নবজাতককে কোলে তুলে নেন। পরে মা ও নবজাতকের চিকিৎসা জন্য হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।

হাসপাতালে দেখা যায়, ফুটফুটে নবজাতক সন্তানকে নিয়ে শুয়ে আছেন ভারসাম্যহীন নারী। নবজাতক বুকের দুধ খাচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাছিরুজ্জামান তার চিকিৎসা দিচ্ছেন।

মানসিক ভারসাম্যহীন ওই তরণীকে তার নাম জিজ্ঞাসা করা হলে জানান পারভীন। ঠিকানা বলেছেন বরিশাল। এ ব্যাপারে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। মা ও সন্তান সুস্থ হলে সমাজসেবা অধিদফতরের মাধ্যমে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রামপুর বাজারের ব্যবসায়ী তিতুমীর মিয়া জানান, বাজারের পাশের বাড়ির ইয়াসমিন বেগম নামের এক নারী ভোরে রাস্তায় হাঁটতে বের হলে দেখেন বাজারের দোকানের সামনে সন্তানসম্ভবা মানসিক ভারসাম্যহীন ওই তরুণী প্রসববেদনায় ছটফট করছেন। তখন তিনি আরও কয়েকজন নারীর সহায়তায় বাজারের তার পাশের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানেই সকাল ৭টার দিকে নরমাল ডেলিভারিতে ছেলেসন্তানের জন্ম হয়।

তিনি বলেন, সন্তান প্রসব করে তরুণী আবার ওই দোকানের সামনে চলে আসেন। পরে আমি মোবাইল ফোনে এ ঘটনা ইউএনওকে জানাই। এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে ঘটাস্থলে ছুটে আসেন ইউএনও। তিনি মা ও সন্তানকে হাসপাতালে পাঠিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাবেয়া পারভেজ জানান, স্থানীয়দের কাছে জানতে পারি নবজাতকের যখন জন্ম হয়। সংবাদ পেয়েই আমি ঘটনাস্থলে আসি এবং মানসিক ভারসাম্যহীন ওই ও নবজাতকের চিকিৎসার জন্য উপজেলো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানোর ব্যবস্থা করি। বর্তমানে তার ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীর রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন ওই তরণীকে তার নাম জিজ্ঞাসা করা হলে জানান পারভীন। ঠিকানা বলেছেন বরিশাল। এ ব্যাপারে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। মা ও সন্তান সুস্থ হলে সমাজসেবা অধিদফতরের মাধ্যমে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাছিরুজ্জামান বলেন, সকাল ৯টার দিকে ইউএনওর উদ্যোগে নবজাতক ও মাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে নবজাতক ও মা সুস্থ আছে। নরমাল ডেলিভারিতে ও সঠিক সময়ে বাচ্চার জন্ম হয়েছে। বাচ্চার ওজন ও বয়স ঠিক আছে। বাচ্চা মায়ের দুধ খাওয়া শুরু করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category