আজ ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

শুধু বিদ্যালয় নয় পারিবারিক শিক্ষাও জরুরী

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি: মোঃ জুনেদ আহমদ, শিশুদের নৈতিক শিক্ষার ভিত্তি গড়ে ওঠে পরিবার থেকে। পরিবারে মা হচ্ছে তাদের প্রথম শিক্ষক। মায়ের কাছ থেকেই তারা তাদের জীবনের সামগ্রিক প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পেয়ে থাকে। একটি শিশু তার জীবনের প্রথম ছয় বছরে যা শেখে তা-ই হচ্ছে তাদের জীবনের সেরা শিক্ষা।জীবনে প্রত্যেক মানুষের সবচেয়ে বেশি যা প্রয়োজন তা হল পারিবারিক শিক্ষা। আর এগুলো রপ্ত করতে হয় প্রথমত পরিবার থেকেই। কারণ সভ্যতা, ভদ্রতা, নৈতিকতা, কৃতজ্ঞতা বোধ, অপরের প্রতি শ্রদ্ধা-স্নেহ, পরোপকার, উদার মানসিকতা- এগুলো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে খুব বেশি অর্জন করা যায় না। একাডেমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পড়ালেখা করে শিক্ষিত হওয়া যায়, মেধাবী হলে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করে দেশের সীমানা পেরিয়ে ভিনদেশেও নাম কুড়ানো যায়; কিন্তু পরিবার থেকে সুশিক্ষা না পেলে একসময় সব শিক্ষাই বৃথা  হয়ে যাবে।প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি আমাদের পারিবারিক শিক্ষার ভূমিকা অন্যতম। ছোট থেকে বাবামায়েরাই ছেলে মেয়েদের কোনটা ভাল, কোনটা খারাপ, কোন কাজটা করা যাবে না এগুলো শিখাতে হবে। ধরুন আপনার ছোট ছেলেটি একদিন স্কুল থেকে কারো একটি পেন্সিল নিয়ে আসলো, আপনি তা দেখেও তাকে কিছু বললেন না, পরের দিন হয়ত সে কারো আর একটি পেন্সিল নিয়ে আসলো। এভাবে চলতে থাকলে একদিন সে মনে করবে এটাই নিয়ম। এটা কোন অপরাধ না। তাই সন্তানের নীতি নৈতিকতা ও মনমানসিকতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে পরিবারের যথেষ্ট ভূমিকা থাকা উচিত।ছোট থেকে ছেলেমেয়েদের চারিত্রিক গঠন শুরু হয়, তাই চরিত্র গঠনের বিষয়গুলো পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি আলোচনা করতে হবে। সব সময় সত্য কথা বলার অভ্যাস তাদের মধ্যে গড়ে তুলতে হবে। কোনটা ভাল, কোনটা মন্দ সেই পার্থক্য নির্ণয়ের ক্ষমতা তাদের মধ্যে ছোট থেকে থাকতে হবে তা না হলে তাদের মধ্যে মনুষ্যত্ব থাকবে না, ফলে তারা বিভিন্ন অসামাজিক কার্যক্রমে লিপ্ত হবে। মানবিক মূল্যবোধ এর শিক্ষা ছোট থেকে দিতে হবে যেমন পিতা-মাতা শিক্ষকসহ ধনী-দরিদ্র সকলকে সম্মান করতে হবে,সবসময় মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়াতে হবে, গরিবদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়াতে হবে, অন্যয়ের প্রতিবাদ করতে হবে, মানুষকে ভালবাসতে হবে।ছোট থেকে তাদেরকে নীতিবাক্য শেখাতে হবে।ছেলেমেয়েদের উচ্ছৃঙ্খল জীবনের জন্য অনেকে তাদের বাবা মাকে দায়ী করে। তাই আপনার সন্তানটি কোথায় কি করছে চোখ কান খোলা রাখুন। সন্তানকে বেশি বেশি সময় দেন। তাদের সাথে বেশি করে গল্প করুন। তাদেরকে মাঝে মাঝে বাইরে ঘুরতে নিয়ে যান। একটা বিষয় পড়ার চেয়ে তারা দেখে দ্রুত শিখে।মনে রাখবেন মোটামুটি পাঁচ/ছয় বছর বয়স থেকেই আপনার ছোট্ট সোনামণির নিজেস্ব সম্মানবোধ সৃষ্টি হয়। অবশ্যই ছোট থেকেই সন্তানের সামনে সু-শিক্ষার বিষয়ে আলোচনা ও তার মাঝে চর্চার প্রচলন ঘটাতে হবে। শিক্ষিত হওয়ার জন্য যেমন একাডেমিক শিক্ষার প্রয়োজন তেমনি সন্তানকে, সুস্থ মানসিকতার ধারক ও বাহক হওয়ার জন্য সভ্যতা-ভদ্রতা-নৈতিকতা এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার মতো মননের অধিকারী যেন হয় সেই বিষয়ে বাবা-মাকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     More News Of This Category